Breaking News

6/trending/recent
সংবাদ ভয়েস ৯ বাংলাদেশ, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অনাবাসী বাঙ্গালীদের প্রিয় নিউজ পোর্টাল হোয়াটসঅ্যাপ +৯১-৮৯২৭০৪২৫৯৪ সম্পাদক : তারক ঘোষ

Hot Widget

Type Here to Get Search Results !

গীতাকে আমরা পুজো করেছি, কিন্তু, আজ সবথেকে বেশি প্রয়োজন গীতার বাস্তব প্রয়োগঃ শ্রীবাবাজী মহারাজ

 


দয়া করে বাবাজীর মতো কুসংষ্কারবিহীন, আধুনিক বিজ্ঞান-মনস্ক, গবেষক ও গ্রন্থকারকে শুধু ধর্মীয় গন্ডীর মধ্যে রাখবেন না। তিনি ধর্মের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কুসংষ্কার দূর করতে এসেছিলেন। কুসংষ্কারে বন্দী থাকার জন্য আসেন নি। তার সমস্ত লেখা ও ভিডিও মন দিয়ে পড়লে বা দেখলে বুঝতে পারবেন, তিনি কোন ধরণের সাধক ছিলেন, আর দাদাজী মহারাজ কেন তাকে ওইরকম একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করার আদেশ দিয়েছিলেন।

 

তারক ঘোষ


বাবাজী মহারাজ তার ‘গীতা চিরন্তন’ গ্রন্থে একটি শ্লোকের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দ্বর্থ্যহীন ভাষায় জানিয়েছেন – ‘গীতাকে আমরা পুজো করেই সন্তুষ্ট থেকেছি, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে শিখি নি। তাই আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং জাতীয় জীবনে দুর্দশা ঘনিয়ে এসেছে। আমাদের মনে হয়, আজ সবথেকে বেশি প্রয়োজন গীতার বাস্তব প্রয়োগ।‘

 কে বলতে পারেন একথা? বলতে পারেন সেই ব্যক্তি, যিনি শ্রীমদ্ভগবত গীতাকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার মতো জ্ঞান রাখেন এবং ধর্মকে মানুষের জীবনের ব্যবহারিক অঙ্গ করে তুলতে পারেন, তার সঠিক ও যথাযথ প্রয়োগ দ্বারা।



এই প্রসঙ্গে তিনি ‘ইউ এন ও’ এর প্রাক্তন সচিব হ্যামারশিল্ডের উক্তি তুলে ধরেছেন “গীতার নিঃষ্কাম কর্ম গোটা পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারে।“ স্বামী বিবেকানন্দও একইভাবে ধর্মের ব্যাখ্যা ও গীতার ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। কারণ, ধর্মকে আশ্রয় করে মানুষ নিজের দোষকে চিনতে পারে, নিজেকে বদলাতে পারে। যদি তার বদলানোর ইচ্ছা জাগে। আর জেগে ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে কোনো ভাবেই জাগানো সম্ভব নয়। তারা গীতা বা মহাভারতের মধ্যে কুরুপক্ষকেই নিজেদের আইডল মনে করে নিজের নিজের পথেই চলবে, সেটা কুপথ জেনেও ফেরার চেষ্টা করবে না। এটা আসে, না মানার অহঙ্কার আর অতি আত্মবিশ্বাস থেকে।

বাবাজী মহারাজ বলছেন – ধর্ম সমাজকে রক্ষা করে। ধর্ম থাকে বলে বলেই মানুষ কিছুটা সংযমে বাধা থাকে। অবশ্য, এখন বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই আর সংযম দেখতে পাওয়া যায় না। সমাজের একটা বড় অংশের মধ্যে প্রবেশ করেছে অসংযমী জীবন যাপনের প্রবণতা। পরস্ত্রী ও পরপুরুষে আসক্তি – এখনকার সামাজিক জীবনে খুবই স্বাভাবিক। আর তাই বাবাজী মহারাজ তার প্রবচনে এই দিকটা নিয়ে বারবার আলোচনা করেছেন। আপনারা সেই সমস্ত ভিডিও দেখে নিতে পারেন। আর গীতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ‘ গীতা চিরন্তন’ গ্রন্থে তিনি কী বলছেন?



মানুষ যখন ধর্মের নামে অধর্ম করে, পুজোর নামে করে উশৃঙ্খলতা, ধর্মের বেশ ধারণ করে অধর্ম করে- যেমন ত্যাগী সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করে অধর্ম করা। ধর্মের স্থানে অধর্ম – যেমন আশ্রমাদি তপস্যার জায়গায় অবাধে ইন্দ্রিয়লীলা চলে, তখন ভগবানকে আসতে হয়।

একমাত্র গীতার জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ করে মানুষকে অন্যায় পথ থেকে সরানো সম্ভব বলে বাবাজী মহারাজ বিশ্বাস করতেন। কিন্তু, কে মানবে সেই কথা। বেশিরভাগ মানুষ ধর্মকে সামনে রেখেই অধর্ম করে যাচ্ছেন। এদের জীবনে গীতার কোনো ভূমিকা আছে বলেও মনে হয় না। আসলে দুঃষ্কর্ম যতক্ষণ না পার্থিব আদালতের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায় এদের চৈতন্য হয় না। ভগবানের বিচারকে এরা ভয় পায় না, কিন্তু পার্থিব আদালতকে ভয় করে। যদি প্রমানিত হয়ে যায় তাদের দুঃষ্কর্ম। এই শ্রেণির মানুষ শুধু নিজের অপকারই করে না, সমাজকেও পঙ্কিল করে তোলে।

আর এ জন্যই দরকার গুরুদেবের মত- পথ আর বাক্যকে আশ্রয় করে চলা। যাতে পথ ভুল করলে, তিনিই ফিরিয়ে আনেন, কারণ আমাদের নিজেদের ফেরার রাস্তা একমাত্র তিনিই করতে পারেন।

 

Post a Comment

0 Comments

Top Post Ad

Below Post Ad