এই প্রকল্পে বলা হয়েছে, মাত্র ৪ শতাংশ হারে সুদের বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। দেশের যে কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক এ ব্যাপারে ঋণ দেবে।
কাজেই তিনি স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে একটি ব্যাঙ্কে ঋণের আবেদন করেন। সুদেষ্ণার কথায়, যেহেতু তাঁর বাবার নামে একাধিক ব্যাঙ্ক ঋণ আগে থেকেই রয়েছে তাই ওই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক তার আবেদন নাকচ করে দেয়।
এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সুদেষ্ণা।
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে রাজ্য সরকার ঋণের গ্যারেন্টার। তাই কোনও পড়ুয়া ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে না পারলে রাজ্য সরকারই সেই ঋণ সুদ সহ মিটিয়ে দেবে। কিন্তু বারবার অভিযোগ উঠছে, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলি সেই ঋণ দিতে চাইছে না পড়ুয়াদের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ পেতে বিস্তর ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে বাংলার মেধাবী পড়ুয়াদের। সামান্য ভুলচুক হলেই আবেদন নাকচ করছে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক।
সুদেষ্ণার আবেদন খতিয়ে দেখে এবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পে রাজ্য সরকার গ্যারান্টার হওয়া সত্ত্বেও একাধিক পড়ুয়াকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণ থেকে বঞ্চিত করছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক।
ফলে এই প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রকল্পের যথাযথ রূপায়ণের জন্য অবিলম্বে রাজ্যে এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে মনিটরিং কমিটি গড়তে হবে। পড়ুয়াদের ঋণ পাওয়ার সমস্যা জেনে নিয়ে এই কমিটি সমাধানের ব্যবস্থা করবে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দু’সপ্তাহের মধ্যে ঋণদানের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ২০২১ সালের ৩০ জুনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই ঋণের যাবতীয় দায়ভার রাজ্যের। তারাই লোনের গ্যারান্টার। তাই ঋণ পাওয়া থেকে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হলে শিক্ষাদফতরকেই তার দায় নিতে হবে। শিক্ষাদফতরকে অবিলম্বে রাজ্যে এবং জেলাগুলিতে নজরদারি কমিটি গড়ে পদক্ষেপ করতে হবে।
য
দিও যে মামলার সূত্র ধরে কলকাতা হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ও রায় সেই সুদেষ্ণা বণিককে ঋণদানের জন্য সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে সংশ্লীষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের এজলাসে সেই মামলার শুনানি শেষ হলেও তার রায়দান স্থগিত রেখেছেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি।


No comments:
Post a Comment